পরিবেশ কাকে বলে?
উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার দরকার হয়, তাকে পরিবেশ বলে। পরিবেশ তৈরি হতে দরকার লাগে জল, বাতাস, মাটি, উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষ।
বিজ্ঞানীরা পরিবেশের নানা সংজ্ঞা দিয়েছেন। তাঁদের বলার ধরন আলাদা হলেও, মূল কথাটির মধ্যে কোনো তফাত নেই। নীচে পরিবেশের কয়েকটি সংজ্ঞা দেওয়া হল।
(১) ইউনাইটেড নেশন্স এনডায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (১৯৭৬)-এ দেওয়া সংজ্ঞা অনুসারে UNE "পরিবেশ বলতে পরস্পর ক্রিয়াশীল উপাদানগুলির মাধ্যমে গড়ে ওঠা সেই প্রাকৃতিক
ও জীবমণ্ডলীয় প্রণালীকে বোঝায় যার মধ্যে মানুষ ও অন্যান্য সজীব উপাদানগুলি বেঁচে থাকে, বসবাস করে"।
(২) পরিবেশ বিজ্ঞানী বটকিন এবং কেলার, তাঁদের "এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স" নামক গ্রন্থে বলেছেন যে "জীব, উদ্ভিদ বা প্রাণী তাদের জীবনচক্রের যে-কোনো সময়ে যে সমস্ত জৈব এবং অজৈব কারণগুলির দ্বারা প্রভাবিত হয়, সেই কারণগুলির সমষ্টিকে পরিবেশ বলে।" [জৈব কারণ, যেমন- কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, অজৈব কারণ, যেমন- মাটি, বাতাস, সূর্যালোক ।
(৩) জীববিজ্ঞানী ওডাম, তাঁর "ফান্ডামেন্টাল্স অব ইকোলজি” নামক গ্রন্থে পরিবেশের সংজ্ঞার বলেছেন যে, পারিপার্শ্বিক অবস্থার যে উপাদান, কারণ ও লক্ষণগুলি সামগ্রিকভাবে জীব ও জীব সম্প্রদায়ের কাজকর্ম ও উন্নয়নকে প্রভাবিত করে, তাকে পরিবেশ বলে।
দ্য কনসাইজ অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে পরিবেশ (Enwonment)-কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, "পরিবেশ হল উদ্ভিদ ও প্রাণী জগতের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বহিরঙ্গের অবস্থাগুলির সমষ্টি"। এখানে বহিরঙ্গের অবস্থা হল চারপাশের অবস্থা। সুতরাং উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষ তার চারপাশের যে অবস্থার মধ্যে সুস্থ, স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকে সেই জৈব এবং অজৈব কারণের সমাহার হল পরিবেশ।
আর্থ-সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবেশ হল সেই সমস্ত প্রাকৃতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা যা মানুষকে যে-কোনো জায়গায়, যে কোনো সময়ে প্রভাবিত করে। যেমন, জিনিসের দাম বাড়লে মানুষের কষ্ট বাড়ে। যুদ্ধ-বিগ্রহ-দাঙ্গা হলে লোকের দুঃখ-দুর্দশা বাড়ে। এখানে মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধ-বিগ্রহ প্রভৃতি হল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের উদাহরণ।
